ঈমানের সাথে জীবদ্দশায় যিনি ক্ষনিকের জন্য
হলেও রাসুলে মকবুল (সাঃ) এর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন,স্বচক্ষে দেখেছেন তাকেঁ
সাহাবী বলে। কবির কবিতায়,প্রাবন্ধিকের প্রবন্ধে বা কোনো গল্পকারের গল্পে
সাহাবায়ে কেরামের রাসুলপ্রেমের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা সম্ভব কিনা তা আমার
জানা নেই। আমি এখানে যৎ সামান্য তুলে ধরার চেষ্টা করব।
পবিত্র কোরআন-হাদিসে সাহাবায়ে কেরামের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে।
রাসুলে পাক (সাঃ) এর ভালবাসায় সাহাবায়ে কেরামের দৃষ্টান্ত দ্বিতীয়টি আর
সৃষ্টির ইতিহাসে খুজে পাওয়া যাবে না। সাহাবায়ে কেরামের কয়েক লক্ষ চোখ
সার্বক্ষনিক রাসুলে খোদা (সাঃ) এর জীবনপানে চেয়ে থাকত। গৃহের অভ্যন্তরে
প্রিয়নবীর কার্যক্রম গভীরভাবে লক্ষ্য রাখতেন ও সংরক্ষন করতেন ১১/১৩ জন
বিচক্ষন,বুদ্ধিমতি.প্রজ্ঞাবান ও মেধাবী রমণী (উম্মহাতুল মুমিনীন)।
করণীয়-বর্জনীয় কিছু জানার বা শোনার সাথে সাথেই সাহাবায়ে কেরাম
প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতেন কে কত আগে তা পালন করতে পারেন। মা সন্তানের
মায়া ত্যাগ করেছেন, সন্তান মায়ের মমতাকে তুচ্ছ করেছেন,স্বামী-স্ত্রীর
ভালবাসা,স্ত্রী-স্বামীর ভালবাসা জলান্জলি দিয়েছেন,ভাই-ভাইয়ের
দরদ,বোন-বোনের মায়া সবই ত্যাগ করেছেন রাসুল (সাঃ) এর ভালবাসার কারনে।
সহায় সম্পদ সবকিছুই উৎসর্গ করেছেন রাসুল (সাঃ) এর জন্য। বাপ-দাদার বসত
বাড়ি,উত্তরাধিকার সুত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি, প্রভাব-প্রতিপত্তি সব কিছু
ছেড়ে অজানার পথে পাড়ি জমিয়েছেন মদিনার পথে। একটিবারের জন্য ফিরেও
তাকাননি সেসবের দিকে। জীবনে কোনদিন আক্ষেপও করেননি। কেবল আক্ষেপ আর
যন্ত্রনা তখনই দেখিয়েছেন যখন রাসুল (সাঃ) এর পছন্দ-অপছন্দ,আদেশ-নিষেধ
পালনে গাফিলতি বা বিলম্ব হয়েছে। ক্ষুধার জ্বালা নিবারণ করেছেন রাসুলে
আকরাম (সাঃ) এর অপরুপ চেহারা মোবারক দর্শনে। রাসুলে আকরাম (সাঃ) মুখের থুথু
মোবারক পিঠ,হাত পেতে গ্রহণ করেছেন,পরম ভক্তি ও শ্রদ্ধায় মেখে দিয়েছেন
দেহ অবয়বে। শত অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছেন রাসুলে মকবুল (সাঃ) এর
ভালবাসার জন্য । সুন্দরী,রুপসী,ষোড়শী,তম্বী-তরুনী,অপরুপা নববিবাহীতা
স্ত্রীকে নিয়ে বাসর সাজিয়েছেন,ডাক দিয়েছেন প্রিয় নবী (সাঃ) জিহাদের।
সেই অপরুপা স্ত্রীর দিকে একটিবারের জন্যও ফিরে তাকাননি। হাসিমুখে বিলিয়ে
দিয়েছেন জীবন। রাসুলে মাকবুল (সাঃ) এর প্রতি সাহাবায়ে কেরামের এমন
নজিরবিহীন ভালবাসায় আরশের মালিক আল্লাহ তায়ালা খুশি হয়ে নাযিল করেছেন
অসংখ আয়াত। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন-
لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ
الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنزَلَ السَّكِينَةَ
عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا
“আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, যখন তারা বৃক্ষের নীচে আপনার কাছে শপথ করল। আল্লাহ অবগত ছিলেন যা তাদের অন্তরে ছিল। অতঃপর তিনি তাদের প্রতি প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদেরকে আসন্ন বিজয় পুরস্কার দিলেন।” (সুরা আল-ফাতহ-১৮)
“আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, যখন তারা বৃক্ষের নীচে আপনার কাছে শপথ করল। আল্লাহ অবগত ছিলেন যা তাদের অন্তরে ছিল। অতঃপর তিনি তাদের প্রতি প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদেরকে আসন্ন বিজয় পুরস্কার দিলেন।” (সুরা আল-ফাতহ-১৮)
وَالسَّابِقُونَ الأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنصَارِ
وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللّهُ عَنْهُمْ وَرَضُواْ
عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الأَنْهَارُ
خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
“আর যারা সর্বপ্রথম হিজরতকারী ও আনছারদের মাঝে পুরাতন, এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ সে সমস্ত লোকদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন কানন-কুঞ্জ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত প্রস্রবণসমূহ। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। এটাই হল মহান কৃতকার্যতা।”(সুরা-আত তওবা ০৮)
“আর যারা সর্বপ্রথম হিজরতকারী ও আনছারদের মাঝে পুরাতন, এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ সে সমস্ত লোকদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন কানন-কুঞ্জ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত প্রস্রবণসমূহ। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। এটাই হল মহান কৃতকার্যতা।”(সুরা-আত তওবা ০৮)
لِلْفُقَرَاء الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِن دِيارِهِمْ
وَأَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا
وَيَنصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُوْلَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ
“এই ধন-সম্পদ দেশত্যাগী নিঃস্বদের জন্যে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও
সন্তুষ্টিলাভের অন্বেষণে এবং আল্লাহ তাঁর রসূলের সাহায্যার্থে নিজেদের
বাস্তুভিটা ও ধন-সম্পদ থেকে বহিস্কৃত হয়েছে। তারাই সত্যবাদী।” (সুরা-হাশর
০৮)
الَّذِينَ آمَنُواْ وَهَاجَرُواْ وَجَاهَدُواْ فِي سَبِيلِ اللّهِ
بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ أَعْظَمُ دَرَجَةً عِندَ اللّهِ
وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ
যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে এবং আল্লাহর রাহে নিজেদের জান ও মাল
দিয়ে জেহাদ করেছে, তাদের বড় মর্যাদা রয়েছে আল্লাহর কাছে আর তারাই
সফলকাম।(সুরা-আত তওবা ২০)
وَمَا لَكُمْ أَلَّا تُنفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلِلَّهِ مِيرَاثُ
السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا يَسْتَوِي مِنكُم مَّنْ أَنفَقَ مِن قَبْلِ
الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُوْلَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِّنَ الَّذِينَ
أَنفَقُوا مِن بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى
وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
“তোমাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করতে কিসে বাধা দেয়, যখন আল্লাহই
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের উত্তরাধিকারী? তোমাদের মধ্যে যে মক্কা বিজয়ের
পূর্বে ব্যয় করেছে ও জেহাদ করেছে, সে সমান নয়। এরূপ লোকদের মর্যাদা বড়
তাদের অপেক্ষা, যার পরে ব্যয় করেছে ও জেহাদ করেছে। তবে আল্লাহ উভয়কে
কল্যাণের ওয়াদা দিয়েছেন। তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।”
(সুরা আল-হাদিদ ১০)
إِنَّ الَّذِينَ سَبَقَتْ لَهُم مِّنَّا الْحُسْنَى أُوْلَئِكَ عَنْهَا مُبْعَدُونَ
“নিশ্চয় যাদের জন্য প্রথম থেকেই আমার পক্ষ থেকে কল্যাণ নির্ধারিত হয়েছে তারা দোযখ থেকে দূরে থাকবে।” (সুরা-আম্বিয়া ১০১)
“নিশ্চয় যাদের জন্য প্রথম থেকেই আমার পক্ষ থেকে কল্যাণ নির্ধারিত হয়েছে তারা দোযখ থেকে দূরে থাকবে।” (সুরা-আম্বিয়া ১০১)
مُّحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاء عَلَى
الْكُفَّارِ رُحَمَاء بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ
فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِم مِّنْ
أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي
الْإِنجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ
فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ
الْكُفَّارَ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ
مِنْهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا
“মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল এবং তাঁর সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল। আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় আপনি তাদেরকে রুকু ও সেজদারত দেখবেন। তাদের মুখমন্ডলে রয়েছে সেজদার চিহ্ন । তওরাতে তাদের অবস্থা এরূপ এবং ইঞ্জিলে তাদের অবস্থা যেমন একটি চারা গাছ যা থেকে নির্গত হয় কিশলয়, অতঃপর তা শক্ত ও মজবুত হয় এবং কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে-চাষীকে আনন্দে অভিভুত করে-যাতে আল্লাহ তাদের দ্বারা কাফেরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা দিয়েছেন।” (সুরা-আল-ফাতহ ২৯)
“মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল এবং তাঁর সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল। আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় আপনি তাদেরকে রুকু ও সেজদারত দেখবেন। তাদের মুখমন্ডলে রয়েছে সেজদার চিহ্ন । তওরাতে তাদের অবস্থা এরূপ এবং ইঞ্জিলে তাদের অবস্থা যেমন একটি চারা গাছ যা থেকে নির্গত হয় কিশলয়, অতঃপর তা শক্ত ও মজবুত হয় এবং কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে-চাষীকে আনন্দে অভিভুত করে-যাতে আল্লাহ তাদের দ্বারা কাফেরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা দিয়েছেন।” (সুরা-আল-ফাতহ ২৯)
এ সমস্ত আয়াতে প্রিয়নবীর অনুসারী ও মুহিব্বিনের নিদর্শনসমূহ বর্ণিত
হয়েছে। এমনি আরও অসংখ্য আয়াতে মহান রাব্বুল আলামিন সাহাবায়ে কেরামের
ত্যাগ,আল্লাহ-রাসুলের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালবাসার বিবরণ দিয়েছেন।
প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। নিম্নে সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা সম্পর্কে কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করা হল।
প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। নিম্নে সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা সম্পর্কে কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করা হল।
“ হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন রাসুল (সাঃ) এরশাদ
করেছেন; আমার সাহাবীদের তোমরা মন্দচারী বলোনা। তোমাদের কেউ যদি উহুদ
পাহাড় পরিমাণ স্বর্ন আল্লাহর রাস্তায় দান কর ,তবে আমার সাহাবীদের এক
মুদ(এক সেরের মত) পরিমান বা তার অর্ধেক পরিমান দানের সওয়াব পাবে না।”
(বুখারী-মুসলিম)
“ হযরত ইমরান ইবনে হুছাইন (রা) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন,রাসুলে মাকবুল
(সাঃ) এরশাদ করেছেন উম্মতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট মানুষ আমার যুগের লোকজন
অর্থ্যাৎ সাহাবায়ে কেরাম। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগের লোকজন (তাবেয়ীগণ) অতঃপর
তৎপরবর্তী যুগের লোকজন (তাবে তাবেয়ীগণ) অতঃপর তোমরা তাদে;র পরে এমন
সম্প্রদায়কে পাবে,যাদের কাছে স্বাক্ষ্য চাওয়া হবে না কিন্ত তারা
স্বাক্ষ্য দিবে। খেয়ানত করবে-আমানতদার হবে না।” (বুখারী-মুসলিম)
হযরত জাবের (রা) হতে বর্ণিত,তিনি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে,
তিনি বলেছেন,যে জীবদ্দশায় (ঈমানের সাথে) আমাকে দেখেছে (অর্থ্যাৎ
সাহাবীগণ) তাকেঁ জাহানানমের আগুন স্পর্শ করবে না, যে জীবদ্দশায় (ঈমানের
সাথে) এমন ব্যক্তিকে দেখেছে যে আমাকে জীবদ্দশায় দেখেছে (অর্থ্যাৎ
তাবেয়ীগণ) তাকেঁও জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না।” (তিরমিযী শরীফ)
কুরাইশ দুত ওরওয়াহ ইবনে মাসউদ ছাকাফী মুসলমান হওয়ার পুর্বে
হুদাইবিয়ার সন্ধিকালে গোয়েন্দা হিসেবে সাহাবায়ে কেরামের অবস্থা
সরেজমিনে পর্যবেক্ষনের জন্য মদিনায় আসেন। অতঃপর কুরাইশদের নিকট গিয়ে
রাসুল (সাঃ) এর প্রতি সাহাবায়ে কেরামের ভক্তি-শ্রদ্ধা-ভালবাসার যে অনন্য
ছবি একেছিলেন তা তার বর্ণনাতেই দেখুন,
“ হে আমার জাতি! আল্লাহর কসম,আমি তোমাদের দুত হিসেবে রোমের
সম্রাট,ইরানের শাহানশাহ,আবিসিনিয়ার নাজ্জাশির দরবারে গিয়েছি। আল্লাহর
কসম কোন রাজা-বাদশাহর প্রতি তার প্রজা বা সভাসদগণকে এমন
ভক্তি-শ্রদ্ধা-সম্মান করতে দেখিনি,যেরুপ মুহাম্মাদের সাহাবীগণ মুহাম্মদের
প্রতি করে। আল্লাহর কসম করে বলছি তাদেঁর অবস্থা হলো এই যে,যখন তিনি (রাসুল
সাঃ) তাঁর মুখের থুথু ফেলেন তখন তাঁর থুথু কারো না কারো হাতেই পড়ে।
অতঃপর সেই ঐ থুথু পরম ভক্তিতে মুখে শরীরে মেখে নেয় । যখন তিনি কোন কাজের
আদেশ করেন, তখন তারা কার আগে কে করবে তা নিয়ে হুড়োহুড়ি করতে থাকে। যখন
তিনি ওজু করেন তখন তাঁর ওজুতে ব্যব্হত (অতিরিক্ত) পানিটুকু নিয়ে
কাড়াকাড়ি করতে আরম্ভ করে, আর যখন তিনি কথা বলেন তখন তারা চুপ করে থাকে।
তাকে এতই সম্মান করে যে,তার প্রতি পুর্ণ দৃষ্টিতে তাকাতেও কেউ সাহস করে
না।” (বুখারী শরীফ) সুবহান আল্লাহ!
খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত উমরের ছেলে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) মদিনা
হতে হজ্জের সফরে রওয়ানা করলে মক্কায় যাওয়ার সময় রাসুলে মাকবুল (সাঃ)
যেসব স্থানে বিশ্রাম নিতেন তিনিও তথায় বিশ্রাম নিতেন,যেসব স্থানে নামাজ
পড়তেন তিনিও সেসব স্থানে নামাজ পড়তেন, যে গাছের নিচে বসে আরাম করতেন
তিনিও সে গাছের নিচে বসে আরাম করতেন, প্রাকৃতিক প্রয়োজনে যেখানে অবতরন
করতেন তিনিও সেখানে অবতরন করতেন,তার প্রাকৃতিক প্রাকৃতিক প্রয়োজন না
থাকলেও তিনি অবতরন করে আবার চলতেন। কারো প্রতি ভালবসার এমন দৃষ্টান্ত কেউ
কোনদিন দেখাতে পারবে কি ?
তাবুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণে সামান্য গড়িমসির জন্য হযরত কা’ব বিন মালেক
(রা) সহ আরো তিনজন সাহাবীকে প্রিয়নবী অবরোধ দিলেন (ক) তাদের সাথে কেউ কথা
বলবে না । (খ) সালাম দিবে না,তাদের সালামেন জবাব দিবে না। (গ) তাদের ডাকে
সাড়া দিবে না। (ঘ) তাদের স্ত্রীদেরকে বলা হলো তাদের বিছানায় যাবে না।
(ঙ) অন্যদের জন্য প্রদত্ত নিষেধাজ্ঞা স্ত্রীদের জন্যও বলবৎ করা হলো।
স্ত্রীরা স্বামীর দিকে একবারের জন্য ফিরে তাকালেন না । দুইজন অসুস্থ
হওয়ায় স্বামীদের সেবা করার অনুমতি চাওয়া হলো রহমরে নবী কেবল
অত্যাবশ্যকীয় সেবাদানের অনুমতি দিলেন। কা’ব বলেন,প্রতিদিন নামাজের
জামায়াতে এমন স্থানে দাড়াতাম যেন প্রিয়নবীর মুখখানা দেখা যায়। অপলক
নয়নে শুধু চেয়েই থাকতাম-কা’ব বলে কখন ডাক দেন! মুখের দিকে তাকাতাম আমার
দিকে তাকিয়ে হাসেন কিনা ? চাহনীর দোলখেলায় ফাকে ফাকে দেখতাম আড়চোখে
এমনভাবে আমার দিকে তাকান,আমি যেন বুঝতে না পারি যে তিনি আমার দিকে
তাকিয়েছেন। নবী প্রেমের কি অপুর্ব খেলা ! এভাবে ৪০ দিন অতিবাহিত হলো ।
মদিনার প্রভাবশালী নেতা কা’ব বিন মালিক । তাই অবরোধের সংবাদ বিদ্যুৎবেগে
আশপামের বিভিন্ন দেশেও ছড়িয়ে পড়ল। মুসলমানদের সাথে কাফিরদের তখন তুমুল
যুদ্ধ-বিগ্রহ চলছে। অমুসলিম রাষ্ট্রের শক্তিধর অধিপতিগণ মুহাম্মাদের
বিরুদ্ধে অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করার প্রস্তাবসহ কা’ব বিন মালিকের
কাছে দুত পাঠাল। প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় মেহমান হিসেবে তাদের দেশে চলে আসার
আমন্ত্রনও জানানো হলো। কা’ব বলেন’৪০ দিনের অবরোধে যত না কষ্ট পেয়েছি
তারচেয়েও অনেক বেশী কষ্ট এ জন্য পেয়েছি যে আমার কাছে এমন প্রস্তাব আসল
কিভাবে? নিশ্চয় কাফেররা আমার আচরণ লক্ষ্য করেছে যে আচরণে আমি রাসুলের
অবরোধে সন্তুষ্ট নই বলে তাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।
যাইহোক,এভাবে ৪০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আল্লাহ সুবহানুতায়ালা তাদের তওবা কবুল করার ঘোষনা দেন এবং প্রিয়নবী (সাঃ) অবরোধ প্রত্যাহার করেন। (বিস্তারিত বুখারী শরীফ,কিতাবুল মাগাযী)
যাইহোক,এভাবে ৪০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আল্লাহ সুবহানুতায়ালা তাদের তওবা কবুল করার ঘোষনা দেন এবং প্রিয়নবী (সাঃ) অবরোধ প্রত্যাহার করেন। (বিস্তারিত বুখারী শরীফ,কিতাবুল মাগাযী)
এমনি আরও অসংখ্য হাদিস আছে সাহাবী কেরামের শানে । সাহাবায়ে কেরামের
মর্যাদা ও রাসুলে কারীম (সাঃ) এর প্রতি তাদের ভালবাসার যৎ সামান্য বর্ণনা
এখানে উল্লেখ করলাম। কাউকে ভালবাসা,সম্মান দেখানোর এমন দৃষ্টান্ত কি কেউ
দেখাতে পারবে কোনদিন ?
আমার এ লেখাটি তাদের উদ্দেশ্যে যারা মিলাদ বা ঈদে মিলাদুননবী উদযাপন
করেন, যারা মিলাদের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি দেখান তারা কি বলতে পারবেন কোন
সাহাবীয়ে কেরাম কোনদিন মিলাদ নামক অনুষ্ঠানটি করেছেন ?