প্রিয় নবীর চল্লিশ হাদিস-২

প্রিয় নবীর চল্লিশ হাদিস-২হাদিস নং – ৪
হযরত আবু আবদুর রহমান আব্দুল বিন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাঃ) যিনি সত্যবাদি এবং যার কথাকে সর্বদাই সত্য বলে মেনে নেওয়া হয় – আমাদের বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকের আসল বস্তুটি নিজের মায়ের পেটে চল্লিশ দনি পর্যন্ত শুক্র রুপে জমা হতে থাকে। তারপর তা জমাট বাধা রক্ত রুপে মজুদ থাকে। অতপর থাকে মাংসপিন্ড রুপে। তারপর তার কাছে ফেরেশতা পাঠানো হয় যিনি তার মধ্যে রুহ প্রবেশ করান এবং এ সময় তাকে ৪টি কথার নির্দেশ দেওয়া হয়। তার জীবিকা, তার বয়স, তার কাজ ও সৌভাগ্য বা দূর্ভাগ্যের লিখন।অতএব আল্লাহর
শপথ ! যিনি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই, তোমাদের মধ্যে একজন ব্যক্তি জান্নাতবাসীদের মতো আমল করতে থাকে, এমনকি তার মধ্যে ও জান্নাতের মধ্যে এক হাত মাত্র ব্যবধান থেকে যায়। তখন তার ওপর তার ভাগ্যলিপি কার্যকর হয় এবং সে দোজখীদের মতো আমল করতে শুরু করে।অতপর সে তাতে প্রবেশ করে। আবার তোমাদের মধ্যে একজন দোজখীর মত কাজ করতে শুরু করে, এমনকি তার ও দোজখের মধ্যে এক হাত মাত্র ব্যবধান থেকে যায়, তখন তার ওপর তার ভাগ্যলিপি কার্যকর হয় এবং সে একজন বেহেশতবাসীর মতো আমল করতে শুরু করে এবং পরিশষে সে তাতেই প্রবেশ করে। [ বুখারী ও মুসলিম]
প্রিয় নবীর চল্লিশ হাদিস-২
হাদীস নং – ৫
উম্মুল মোমেনীন উম্মে আব্দুল্লাহ হযরত আয়েশা (রা) থেকেও বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসুলে করিম (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের এ বিধানের মধ্যে একন কোন নতুন বিষয় সংযুক্ত করবে যা তার অংশ নয় তা প্রত্যাখ্যাত হবে। ( এই হাদিসটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। মুসলিমের এক বর্ণনার ভাষা হলো, এমন আমল করবে যা আমাদের বিধানে পরিচিত নয় – তার কাছ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না অর্থ্যাৎ তা প্রত্যাখ্যান করা হবে।)
প্রিয় নবীর চল্লিশ হাদিস-২হাদিস নং ৬
হযরত আব্দুল্লাহ নোমান বিন বশির হতে বর্ণিত: তিনি বলেছেন, আমি রসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি – নিসন্দেহে হালাল অত্যন্ত পরিষ্কার ও ষ্পষ্ট এবং হারাম ও অত্যন্ত পরিষ্কার ও ষ্পষ্ট, আর এ দুয়ের মাঝে কিছু সন্দেহযুক্ত বিষয় আছে যা অনেকেই জানে না। অতএব যে লোক সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে নিজেকে রক্ষা করেছে সে তার দ্বীনকে পবিত্র করেছে এবং নিজের সম্মান রক্ষা করেছে। কিন্তু যে লোক নিজেকে সন্দেহযুক্ত বিষয়ে ফেলেছে সে হচ্ছে সে রাখালের ন্যায়, যে নিষিদ্ধ চারণ ভূমির চারপাশে গবাদি পশু চরায় এবং সর্বদা সে এ সংশয়ে থাকে যে কোনো সময় যে কোনো পশু চারণভূমির মধ্যে ঢুকে চরতে শুরু করবে। সাবধান ! প্রত্যেক রাজা – বাদশাহরই এক নির্দিষ্ট সীমা থাকে। আর আল্লাহর সীমা হচ্ছে তার হারাম করা বিষয়সমূহ। জেনে রাখো শরীরের মধ্যে এক গোশতের টুকরা আছে, এই টুকরাটি যখন নষ্ট হয়ে যায় তখন পুরো শরীরটাই নষ্ট হয়ে যায়। হ্যাঁ এটি হচ্ছে মানুষের কলব। [বুখারী ও মুসলিম]